শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন, কৃষি আইন প্রত্যাহার করল মোদী সরকার

নিউজ ডেস্ক: গত শুক্রবার গুরুনানক জয়ন্তীতে দেশবাসীর উদ্দেশে বড় ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করার কথা বলেন তিনি। এরপরেই দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে ক্ষমা চেয়েই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হয়তো আমাদের প্রচেষ্টাতেই কোনও খামতি রয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই আমরা কৃষকদের বোঝাতে পারিনি। আমি গোটা দেশকে জানাচ্ছি যে আমরা তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আরও পড়ুন-খাবার পৌঁছাতে দেরী হওয়ায় কেলেঙ্কারি!জোম্যাটো ডেলিভারির ছেলেকে মারধর করল গ্রাহক

চলতি মাসের শেষেই যে সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, তাতে কৃষি আইন প্রত্যাহার করার যাবতীয় কাজ শেষ হবে। আমি আন্দোলনরত কৃষক ভাইদের অনুরোধ করছি, এ বার আপনারা ঘরে ফিরে যান, আপনাদের চাষের জমিতে ফিরে যান। আসুন আমরা সবাই মিলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করি।”তবে কেবল আইন প্রত্যাহারই নয়, কৃষকদের জন্য জিরো বাজেট কৃষিকাজ প্রকল্পের ঘোষণাও করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেও অস্বস্তি কাটছিল না। কারন আন্দোলনকারী কৃষকদের চল্লিশটি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষান মোর্চা৷

আরও পড়ুন-১১ মাসের শিশুর মাথায় আটকে গেল হাঁড়ি,হাসপাতাল ও ফায়ার ব্রিগেডেরের প্রচেষ্টায় বেরোলো হাঁড়ি

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২৯ নভেম্বর পূর্ব নির্ধারিত ট্র্যাক্টর মিছিল এবং লখনউ মহাপঞ্চায়েতে অংশ নেবেন কৃষকরা ৷ এ দিনের বৈঠকের পর কৃষক নেতারা জানিয়েছেন, ‘লখনউয়ের মিছিল পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই হবে৷ ২৬ নভেম্বর গাজিপুর- সিঙ্ঘু সীমান্তে বিক্ষোভ এবং ২৯ নভেম্বর ট্র্যাক্টর মিছিল করা হবে৷ প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার একপেশে বক্তব্য রেখেছেন৷ কিন্তু আমরা যতক্ষণ না সন্তুষ্ট হচ্ছি ততক্ষণ আন্দোলন চলবে৷’

আরও পড়ুন-ত্রিপুরায় তৃণমূল কর্মী ও সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে সরব ব্যারাকপুরের আইনজীবীরা

মন পরিস্থিতিতে এক প্রকার চাপে পড়েছে মোদি সরকার। এর জেরে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার সংক্রান্ত বিল আনতে পারে কেন্দ্র। সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। আর প্রথম দিনেই ‘কৃষি আইনসমূহ প্রত্যাহার বিল, ২০২১’ সংসদে পেশ করা হবে। এই বিলের মাধ্যমেই তিন কৃষি আইন বাতিল করা হবে।

আরও পড়ুন-বিশ্ব বাংলা গেটের কাছে এবার তৈরি হলো NKDA-র নিজস্ব কমিউনিটি সেন্টার

গত বছরের সেপ্টেম্বর সংসদে পাশ হওয়ার পর তিন কৃষি আইন তৈরি হয়েছিল। আর তারপর থেকেই কৃষকদের একটি অংশ বিক্ষোভ শুরু করেছিল। আইন পাশের বিরোধিতা করে দীর্ঘ এক বছর ধরে দিল্লি সীমান্তে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন কৃষকরা একাংশ। কেন্দ্রের তরফে একাধিকবার বিক্ষোভরত কৃষকদের এই আইনগুলির সুবিধার কথা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। এরই মধ্যে গুরু নানকের জন্মজয়ন্তীতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *