বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ানোর ডাক পেলেন বি-কম পাশ নীতা আম্বানি

নিজস্ব প্রতিনিধি: বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় বা বিএইচইউতে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে পড়ানোর ডাক পেলেন মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানি। বিএইচইউয়ের সমাজ বিজ্ঞান শাখার পক্ষ থেকে ১২ মার্চ নীতাকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। নীতা সাধারণ বিকম পাশ। এই যোগ্যতায় নীতা কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর ডাক পেলেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের সবচেয়ে ধনী শিল্পপতির স্ত্রী বলেই কি সব নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নীতাকে অধ্যাপনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না তা নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মূলত উইমেন স্টাডিজের পাঠ দেবেন নীতা। এই পাঠ্যসূচির আওতায় মহিলাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, বিএইচইউয়ের এই প্রস্তাবে মৌখিকভাবে সায় দিয়েছেন নীতা। তবে এখনও পর্যন্ত রিলায়েন্স কর্তার স্ত্রী লিখিতভাবে কোনও সম্মতিপত্র পাঠাননি। লিখিত সম্মতিপত্র হাতে পেলেই তাঁকে নিয়োগ পত্র দেওয়া হবে। ক্লাস নেওয়ার জন্য আলাদাভাবে রুটিন তৈরি করা হবে। নীতাকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে পেলে বেনারস-সহ পূর্বাঞ্চলের মহিলাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা।

উল্লেখ্য, মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যশাখায় স্নাতক নীতা। ভারতনাট্যমেও তাঁর সুখ্যাতি আছে। ২০১০ থেকে অলাভজক সংস্থা রিলায়্যান্স ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও যুক্ত নীতা। ২০১৪-য় তিনি সালে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির এগ্‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর নিযুক্ত হন। কিন্তু কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার জন্য যে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন সেটা তাঁর আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনরা বিএইচইউ-এর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ লেখেন, ‘অতিথি অধ্যাপক হিসেবে উইমেন স্টাডিজ নিয়ে পড়াবেন নীতা। উনি তো শুধু বি.কম পাশ। এই যোগ্যতায় যদি কলেজে পড়ানো যায়, তাহলে আমিও যে কোনও কলেজে পড়াতে পারি!’

কেউ লিখেছেন, ‘বিএইচইউ-তে অতিথি অধ্যাপক হচ্ছেন নীতা। পদবি আম্বানি হলেই এখন এই দেশের মালিক হওয়া যায়’। সামাজিক ক্ষেত্রে নীতার কী এমন অবদান আছে যার জন্য তাঁকে বিএইচইউ-এর মতো প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে? তবে এ ব্যাপারে রিলায়েন্সে গোষ্ঠী বা নীতার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বিএইচইউ-এর সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কৌশল কিশোরের দাবি, ‘‘ব্যবসার ক্ষেত্রে নীতার যা অভিজ্ঞতা আছে সেটা মহিলাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *