সামনের কয়েক মাস চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আসছে কঠিন সময়

নিউজ ডেস্ক: অতিমারি উপেক্ষা করেই ভিড় লেগেছে শহরের অলিগলিতে। হারিয়ে গিয়েছি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বা সোশ্যাল ডিসটেন্সিং। পুজোয় ঠাকুর দেখার ভিড়ে এক প্রকার পোয়া বারো ভাইরাসের। যেখানে বাঘের ভড় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। এ যেন ঠিক তাই। করোনার বিপদকে ব্যাখ্যা করার জন্য চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞদের একাংশ যে এমন বাঘা রূপকের আশ্রয় নিচ্ছেন, তার কারণ স্পষ্ট। দেবীপক্ষ শুরুর আগে রাজ্যে সংক্রমণের পজিটিভিটি রেট ছিল ১.৩৬। পুজোর ভিড়ের ধাক্কায় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে দ্বিতীয়ায় তা পৌঁছে গিয়েছিল ২.৩৪-এ। মহাষ্টমীতে সেটি হয় ২.৭৪। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মহানবমীতে সেই পজিটিভিটি রেট বেড়ে হয়েছে ২.৯৩। অর্থাৎ সংক্রমণ-হারের পারদ চড় চড় করে বেড়েই চলেছে।

বঙ্গের আকাশে অতিমারির তৃতীয় ঢেউয়ের মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে। অথচ হাজারো আবেদন-নিবেদন, সতর্কতার প্রচার সত্ত্বেও ভ্রুক্ষেপ নেই জনতার।

আরও পড়ুন-ধেয়ে আসছে ঝড় সহ ভারী বৃষ্টিপাত কলকাতা সহ দুই ২৪ পরগনায়

পুজো মণ্ডপের বাইরে কোভিড বিধিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া মানুষের ঢল দেখে চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, “ক্ষিপ্ত বাঘের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে সে কি শিকার ছেড়ে দেবে? তা তো হয় না। ঠিক তেমনই মাস্ক খুলে, দূরত্ব-বিধি শিকেয় তুলে যে-ভিড় প্যান্ডেল হপিংয়ের আনন্দে মাতোয়ারা, তাদের ছেড়ে দেবে না ভাইরাস। সে ওত পেতেই আছে। ফের কোভিড ভাইরাসের আঘাত করার আশঙ্কাই সর্বাধিক। তাতে কেউ হয়তো বেশি জখম হবেন, কেউ কম।” চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, অসতর্কতার মনোভাব অবিলম্বে বদলে ফেলতে না-পারলে সামনের একটি-দু’টি মাস শুধু আমজনতা নয়, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষেও খুব কঠিন সময় হয়ে উঠতে চলেছে। তাই নবমী নিশি পেরিয়ে আজ, শুক্রবার দশমীতে বিসর্জনের উচ্ছ্বাসে লাগাম টানার ডাক দিচ্ছে স্বাস্থ্য শিবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *