পাভলভের আবাসিকরাও শারদীয়া আনন্দে মেতেছেন!

তাদের সকলে বলে মানসিক রোগী। পাড়ার লোকও মানসিক রোগী ভেবে তাদের এড়িয়ে চলেন কিন্তু তারাও শারদীয়া আনন্দে মেতে উঠতে পারেন তারই প্রমাণ দেখালেন তারা। সকলে যাদের পাগল ভেবে এড়িয়ে চলেন, তারাই শারদীয়া উপলক্ষে একটি আস্ত দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন। এক সময়কার মানসিক রোগীদের এই রকম শিল্প কর্ম দেখে সকলের চোখ কপালে উঠেছে! পাভলভে মানসিক হাসপাতালের চা ঘরের পাশে এই মুহূর্তে সাজো সাজো রব তৈরি হয়েছে। এখানে শ্বেত পদ্মের ওপর দেবী দুর্গা রয়েছেন। এখানে কমলে কামিনী থিম রয়েছে। দেবীর এক হাতে ত্রিশূল আছে, সাথে মহিষাসুর নেই।

দেবী দুর্গার চারপাশে করোনার অসংখ্য মডেল রয়েছে। এখানকার আবাসিকরা বলছেন, এই মুহূর্তে করোনাই অসুর। যাদের জন্য রাস্তায় শান্তিতে চলাফেরা করা যায় না। প্রতি বছর আবাসিকরা ঠাকুর দেখতে যান। গত বছর করোনার কারণে কেউ যেতে পারেননি।

এই বছরও যদি করোনার কারণে তারা যেতে না পারেন, তাহলে কী এইবার‌ও দেবী দর্শন হবে না? সেই চিন্তা থেকেই এই বছর আবাসিকে দুর্গোৎসব করার ভাবনা। আবাসিকের সিদ্ধার্থ শঙ্কর গুহ, টুকাই সাধু খাঁ, দেবাশিস দাস, তপন দাস, প্রদীপ দাস সকলে মিলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন মানসিক হাসপাতালে দেবীকে নিয়ে আসার জন্য।

দশভুজা তৈরি করার টিমে আবাসিক তপনবাবু‌ও আছেন। আগরপাড়ার বাসিন্দা তপন হেসে বলেছেন,“ সকলে ভাবেন মাথার ঠিক নেই। ওদের দেখাবো কেমন ঠাকুর তৈরি করেছি।” হিংসা পছন্দ করেন না বলেই আবাসিকরা মহিষাসুর তৈরি করেননি। তাদের প্রতিমা জুড়ে রয়েছে সারল্য। বাদামী, সাদা, লাল তিন রঙ মিলিয়ে হয়েছে তাদের প্রতিমা।

 


একটা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা পাভলভে মানসিক হাসপাতালে আবাসিকদের ব্লক প্রিন্টিংয়ের ট্রেনিং দিয়ে থাকেন। সেই সংস্থার একজন আধিকারিক রত্নাবলী রায়ের কথায়, এদের তুলির টান নামজাদা কোন শিল্পীর চেয়ে কম নিঁখুত নয়। কী কারণে যে এদের বড় বড় পুজো কমিটি ডেকে নিয়ে যায় না!

 

আবাসিকরা বলেছেন, প্রথমে প্যাস্টেল দিয়ে স্কেচ করেছি। তারপর তুলি আর অ্যাক্রলিক রঙের মিছেলে দশভূজা তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার এই মূর্তির উদ্বোধন হলো, পাভলভের সুপার গণেশ প্রসাদ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাভলভের আবাসিকদের ব্লক প্রিন্টিংয়ের ট্রেনিং দিয়ে থাকেন নব্যেন্দু সেনগুপ্ত। তিনি এইদিন বলেন, “ আমি ওদের শেখাই শুধু নয়। ওদের কাছ থেকেও আমি অনেক কিছু শিখি। সকলে এদের মানসিক ভারসাম্যহীন ভাবে। শিল্পের কোন‌ও প্রথা হয় না। এক রঙের সাথে আর এক রং মিশিয়ে নতুন যে শিল্প এরা সৃষ্টি করেছেন তা সত্যিই অভিনব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *