পদ্ম নয় ১০৮ অপরাজিতা ফুলে সন্ধিপুজো! বলি প্রথা বন্ধের পিছনেও রয়েছে অদ্ভুত এক ঘটনা! জানুন উত্তর কলকাতার ঐতিহ্য পূর্ণ দুর্গা পুজোর ইতিহাস

সচরাচর পদ্ম ফুল দিয়ে সন্ধিপুজো হয়। রামচন্দ্রের সময় থেকে ১০৮ টি পদ্ম দিয়ে দেবী দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। তবে কোথাও কোথাও এই প্রথার অন্যথা দেখা যায়। ঠিক যেমন নীলমণি মিত্র স্ট্রিটের মিত্র বাড়ি। বিগত ২১৫ বছর ধরে এখানে ১০৮ টি অপরাজিতা ফুলে সন্ধিপুজো হয়।

ভোগের সময় দেবীকে বাড়িতে প্রস্তুত করা কুলের আচার ও আট রকমের বড়ি নিবেদন করা হয়। প্রথম কুল ওঠার পর তাই দিয়ে আচার প্রস্তুত করে দেবীকে নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন ধরনের নারকেলের মিষ্টি, গজা ও নানান ধরনের মিষ্টি বাড়ির মহিলারা তৈরি করে দেবীকে নিবেদন করেন।

উত্তর কলকাতার বিখ্যাত রাস্তা নীলমণি মিত্র স্ট্রিটে নীলমণি মিত্রের নাতি রাধাকৃষ্ণ মিত্র এই পুজো শুরু করেন। পরবর্তীকালে বংশ পরম্পরায় ছেলেরা এই পুজো করে আসছেন। তবে রাজকৃষ্ণ মিত্রের নাতি মানবেন্দ্র কৃষ্ণ মিত্রের কোনো ছেলে না থাকায় তিন মেয়ে এই পুজো করেন।

মিত্র বাড়ীর বড়মেয়ে অনুসূয়া বিশ্বাস মিত্র এই প্রসঙ্গে বলেন,“ এই বাড়ির প্রতিমার আর‌ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী মূর্তি হয় দেবীমুখের অর্থাৎ টানা টানা চোখের প্রতিমা। অন্যদিকে কার্তিক ও অসুরের মুখ হয় মানব মুখের আদলে। প্রতিবছর দুর্গামূর্তি একইরকম রাখা হয়।” কুমোরটুলি একটি জায়গা থেকে প্রতিবছর বংশ-পরম্পরা ক্রমে দেবীপ্রতিমা আসে। বর্তমানে প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী অসিত মুখার্জি।

এখানে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী তিনদিন ধরে কুমারী পুজো হয়। দশমীর দিন মাছ ও পান খেয়ে বাড়ির মহিলারা দেবীকে বরণ করেন। আগে এখানে বলি হত। কিন্তু একবার বলির সময় রাজকৃষ্ণ মিত্রের পায়ের কাছে একটি ছাগল চলে যায় তারপর থেকে বলি বন্ধ। আজও প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় বাড়ির পুরুষরা প্রথা মতো সাদা ধুতি পরে ও গায়ের ওড়নি দিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনে আসেন।

বাড়ির অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় রাঢ়ীয় কায়স্থ সম্প্রদায়ভুক্ত দর্জিপাড়া মিত্র বংশের প্রতিষ্ঠাতা জগন্নাথ প্রসাদ মিত্র আড়িয়াদহ থেকে ভাগ্য অন্বেষণে জন্য সুতানুটি অঞ্চলে চলে আসেন তিনি কী ব্যবসা করতেন তা জানা যায়নি। তবে তার পৌত্র দুর্গাচরণ সিরাজউদ্দৌলার ‘কোর্ট জুয়েলার ছিলেন। হিসাবের খাতায় তিনি গান লিখে দিয়েছিলেন। সেই গান পড়ে নবাব সিরাজদৌলা এতটাই খুশি হয়ে গিয়েছিলেন যে, তিনি আজীবন মাসোহারার ব্যবস্থা করে সাহিত্য ও সংগীত চর্চার জন্য গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন দুর্গাচরণ কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *