জঙ্গলের মধ্যে শবর যুবক পাথুরে দেবী মূর্তি পান! তারপর একের পর এক অলৌকিক কান্ড ঘটতে থাকে!!!

সাঁকরাইল ব্লকের বাঁকড়া গ্রামের জয়চন্ডীর মন্দির ভীষণ বিখ্যাত। সারা বছর শবরেরা জয়চন্ডীর মন্দিরে পুজো করেন অথচ পুজোর দিন তাদের সেই অধিকার নাই। পুজোর পাঁচদিন শবরদের পুজো করার অধিকার কেড়ে নেয় ব্রাহ্মণরা। এইসময় ব্রাহ্মণরাই পুজো করেন মন্দিরে। অতীতে এখানে ঘন জঙ্গল ছিলো তখন শবররা কাঠ কাটতে আসতো এখানে। এখানে তারা শিকার করতে আসত। শবরদের পুজোর প্রচলন ও দেবীমূর্তির প্রাপ্ত হ‌ওয়া প্রসঙ্গে একটি গল্পের প্রচলন আছে।

একবার শিকার করতে এসে একজন শবর যুবক হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলো। আচমকা কীভাবে হোঁচট খেয়ে পড়লো তা দেখবার জন্য উঠে ভালো করে সেই স্থানটা দেখবার চেষ্টা করলো। তখন সে দেখতে পেলো যে, সেই স্থানে একটি দেবীমূর্তি পড়ে রয়েছে! সেই দেবী মূর্তি সাথে নিয়ে ঐ যুবক বাড়ি চলে আসেন। কিন্তু তার পরদিন সকালে উঠে তিনি আজব ঘটনার সাক্ষী হন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি সেই দেবী মূর্তি আর বাড়িতে কোথাও খুঁজে পান না। তখন কী মনে করে তিনি খুঁজতে খুঁজতে আবার যেখান থেকে মূর্তিটি পেয়েছিলেন জঙ্গলের সেই স্থানে ফিরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি আশ্চর্য হয়ে যান দেখে যে পূর্বের মতো একইভাবে দেবী মূর্তি টি অবস্থান করছেন সেখানে। আগের দিন ঠিক যেভাবে যে জায়গায় যে অবস্থায় দেবী মূর্তি ছিল ঠিক সেইরকম ভাবেই সেখানে দেবী মূর্তি রয়েছে। সেইদিন তিনি আবার এই মূর্তিটি সংগ্রহ করেন।


সেই রাত্রে ওই যুবক দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাকে স্বপ্নাদেশে বলেন যে ওই জায়গাতেই তাকে পুজো করতে হবে। জঙ্গলের ফুল ফলেই হবে দেবীর পুজো। দেবীর পুজো করবেন শবর দেহুরি অর্থাৎ শবর জাতির পুরোহিতেরা। সেই অনুযায়ী হবে পুজো।

তবে এই পুজো নিয়ে ব্রাহ্মণ সমাজে ভীষণ গন্ডগোল শুরু হয়। শবররা পুজো করবে এই বিষয়টা ব্রাহ্মণ সমাজ মেনে নিতে পারেননি, তারা মূর্তি নিয়ে চলে আসে গ্রামে। নতুন করে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন তারা। কিন্তু সেদিন এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, মা কিছুতেই পুজো নেন না। শেষমেষ আবার জঙ্গলে সেই স্থানে মাকে তারা ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে পুজো চেষ্টা করেন তাতেও ব্যর্থ হন। তখন ব্রাহ্মণরা শবরদেরকে পুজো করতে বললে কোন রকম বাধাবিঘ্ন ছাড়াই শবরদের হাতে পুজো হয়।

তবে পূজোর পাঁচ দিন শবর দের হাত থেকে পুজোর অধিকার তুলে নেন ব্রাহ্মণরা। সেই সময় শবররা শুধু বলি দেওয়ার কাজ করেন, অর্থাৎ তারা তখন পূজক থেকে ঘাতকের ভূমিকা পালন করেন। আজও এই প্রথা পালিত হয়ে আসছে। দেবীর পুজো উপলক্ষে এখানে মেলা বসে বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন দেবীর দর্শনে। আগেকার দিনে শবররা দেবীর পুজো করে তার পর শিকারে যেতেন। তাদের বিশ্বাস ছিল যে দেবীর পুজো করার পর শিকারে গেলে ভালো শিকার মেলে আর তাদের এই বিশ্বাস বাস্তবায়িত ও হত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *