মা দুর্গার অসুরকে ডাক্তার সাজিয়েছিল কলকাতার একটি পুজো কমিটি:প্রতিবাদ ডাক্তারবাবু সম্প্রদায়ের

ইন্দ্রজিৎ রায়, সম্পাদক – পাড়ার ডাক্তারবাবুদের একাংশভোল পাল্টেছেন, টাকা সর্বনাশা পাড়ার ডাক্তার মানেই ভগবান। কিন্তু ভগবান যেন অসুর হয়ে গিয়েছেন। এনিয়ে বিতর্ক হয়েছে তুমুল। মা দুর্গার অসুরকে ডাক্তার সাজিয়েছিল কলকাতার একটি পুজো কমিটি। ডাক্তারবাবু সম্প্রদায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ভগবান যখন অসুর হয়ে যায়, তখন ধরে নেওয়া যায়, যা রটে তার কিছুটা সত্য। আশির দশকের শুরুর দিকেও পাড়ার ডাক্তারবাবু ছিলেন সম্মান করার মতো একজন মানুষ। অল্পে সন্তুষ্ট থাকতেন তারা। ফিজ ছিল মধ্যবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্তের নাগালে। এদের অনেকেই ছিলেন পারিবারিক ডাক্তার। রোগীর পরিবারের সঙ্গে তাদের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সে সব চুরমার হয়ে গিয়েছে।

কেন এই পরিস্থিতি? অভিযোগ, এজন্য দায়ী ডাক্তাররা নিজেরাই। অতিরিক্ত টাকার লোভ দায়ী। ডাক্তারদের একাংশ চিকিৎসা পরিষেবাকে পণ্যে রূপান্তরিত করেছেন। চেম্বারে গেলে অন্তত ৫০০ টাকা ফিজ। আর বাড়িতে ডাকলে দ্বিগুণ।

করোনা পরিস্থিতিতে ডাক্তারদের মধ্যে একাংশ মানবসেবায় প্রাণ দিয়েছেন। সেবা যে মহৎ কাজ নিজের জীবন দিয়ে তার নজির গড়েছেন। সেই করোনা যোদ্ধাদের মনে রাখবে, সেলাম জানাবে ভাবী সমাজ। কারণ ভগবান যে এখনও মানুষের বুকে আছেন জীবন বাজি রেখে তা প্রমাণ করেছেন ওরা। ব্যতিক্রম ছকের বাইরে।অধিকাংশ মানুষের মতো পাড়ার ডাক্তারদের একাংশ শপথ ভুলে আজ অন্যপথের পথিক। হয়ত ওরা পথভোলা পথিক। কিন্তু পথ হারালে মুশকিল। শিক্ষিত মানুষ যদি পথ হারান সেটা গোটা সমাজের পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক।

রোগীকে নিছক পণ্য কিংবা টাকা রোজগারের উপায় হিসেবে দেখলে সেবার মানসিকতা উধাও হয়। তাতে গরিব মানুষ বিপদে পড়েন। সামান্য অসুখেও ইদানীংকালের ডাক্তারদের মধ্যে অনেকেই রোগীর কাছ থেকে মোটা টাকা ফিজ আদায় করেছেন। আসলে মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছাকে অর্থ রোজগারের ফিকির করেছেন ওরা। অভিযোগ এমনই।ইতিমধ্যে দাবি উঠেছে, ডাক্তারদের সর্বোচ্চ ফিজ নির্দিষ্ট করতে হবে। যারা পাড়ায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন তাদের ফিজের মাত্রা নির্দিষ্ট করতে হবে। তবে এখনও দিল্লি বহুদূর। মানুষের ওই দাবি নিতান্ত কাগজে কলমে থেকে গিয়েছে।

ডাক্তাররা লেখাপড়া করেছেন মানুষের করের টাকায়। মানুষের কাছে সেই ঋণ শোধ করা উচিত, এ বলাবাহুল্য।  কারণ মহাজনেরা বলেছেন, মানুষের ঋণ শোধ না করে যদি কেউ সম্পদ একা উপভোগ করেন তবে তিনি চোর। গীতাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এই উপদেশই দিয়েছেন।কিন্তু কাকস্য  পরিবেশনা। মানুষ যন্ত্রণা নিরাময়ে পাড়ার ডাক্তারবাবু সম্প্রদায়ের কাছে গেলেই নানা টেস্ট, ফিজ বাবদ যে টাকাটা খরচ হচ্ছে, স্বভাবতই তাতে আর্থিক টানাটানি বাড়ে। কিন্তু রোগ বলে কথা। তাছাড়া নিরোগ শরীর মনকে উন্নত করে।

পাড়ার ডাক্তারদের মধ্যে অনেকেই অতীতের পাড়ার ডাক্তারবাবু সম্প্রদায়ের আত্মত্যাগ এবং মানবসেবার আদর্শ যেন পরিহাস বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে কষ্টভোগ করছে সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *